২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট দেশ থেকে স্বৈরাচারী আওয়ামীলীগ সরকার বিতাড়িত হওয়ার পর থেকে দেশের রাজনৈতিক দলের যেন চাষাবাদ শুরু হয়েছে। বড় দল গুলোর নামের ভূইফোড় সংগঠন গজিয়ে উঠেছে রাতারাতি। নিজেদেরকে নেতা দাবি করে এসব সংগঠনের সভাপতি সম্পাদক হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছে অনেক পাতি নেতা। মূলত এ ধরনের সংগঠনে ফ্যাসিবাদী লোকজন জড়িয়ে পড়ে টাকার মাধ্যমে বিভিন্ন জেলা কমিটি অনুমোদন করে যাচ্ছে অবৈধভাবে।
বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এখন দেশের রাজনৈতিক মাঠে মোটামুটি এক ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছে। তাই বিএনপি`র নাম দিয়ে অনেকেই নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নবজাগরণ দম নামের আরেকটি ভুইফোর সংগঠন গজিয়ে উঠেছে দেশে। ঢাকার মিরপুর এ তাদের কার্যালয় ঠিকানা ব্যবহার করে সদস্য ফরম ছাপিয়ে ঢাকার মাধ্যমে ফরম বিক্রি করে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার সদস্য বানিয়ে নিয়েছে এ সংগঠনটি। মূলত এ ধরনের কোন সংগঠন বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিতে নেই।
দেখা যায় তাদের সদস্য ফরমে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার করেছে। এটি মূলত বিএনপির সাথে কোন ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। কোন প্রকারের নিবন্ধনহীন এ সংগঠনটি ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলা সমূহে কমিটি অনুমোদন দিয়েছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। রাজনীতি না করা মূর্খ কিছু ব্যক্তির সমন্বয়ে এ সংগঠনটির আবির্ভাব হয়েছে বলে জানা যায়। মূলত কিছু ট্রাক শ্রমিক এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের কিছু সহযোগীদের সমন্বয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নবজাগরণ দলের অবৈধ এই সংগঠনের যাত্রা করে বেশ কিছুদিন আগে। তারা বিভিন্ন জায়গায় দলের নামে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে বলেও জানা যায়। তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান করার কথা বলে বিভিন্ন মহলে চাঁদাবাজ অব্যাহত রেখেছে। যে যত বেশি টাকা দিতে পারবে কমিটিতে তার পদবী বড়। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাদের প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে।
এই অবৈধ সংগঠনের দাবি করা সভাপতি পিয়ার মাহমুদ মূলত একজন অল্প বয়সী ছাত্রনেতা ছিল মিরপুরে। অপকর্মের দায় তাকে সংগঠন থেকে বের করে দেয়ার পরে সে অবৈধভাবে এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করে বলে জানা যায়। বর্তমানে সে শ্রমিক বিষয়ে মালয়েশিয়া অবস্থান করে সেখান থেকে এই অবৈধ সংগঠনটি পরিচালনা করে দেশে কিছু অবৈধ পদবিধারী লোকজন দিয়ে। তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নাম বিক্রি করে বলেও জানা যায়। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সম্মতি না নিয়ে ব্যানারে তাদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ ধরনের সংগঠন তাদের অপকর্ম অব্যাহত থাকলে মূল বিএনপি`র বদনাম হয়ে যাবে বলে অনেক বিএনপি নেতা মনে করেন।
বিষয়টি বিএনপি নেতাদের অবহিত করা হলে তারা খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান।
কালের সমাজ// এ.জে
আপনার মতামত লিখুন :