ঢাকা রবিবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

উৎসব পালন থেকে বঞ্চিত আদিবাসী শিক্ষার্থীরা

হ্লাথোয়াইছা চাক ,রাবি প্রতিনিধি এপ্রিল ৫, ২০২৫, ১১:০৪ পিএম উৎসব পালন থেকে বঞ্চিত আদিবাসী শিক্ষার্থীরা

পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব সাংগ্রাইং, সাংগ্রাই, জলকেলি, বিজু, বিষু, বৈসু ও চাংক্রান। তবে প্রতিবারের মতো এবারও অনেক আদিবাসী শিক্ষার্থী এই উৎসব পালন করতে পারবে না। শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের পথে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আদিবাসী উৎসবের জন্য কোনো বিশেষ ছুটির ব্যবস্থা নেই। অন্য ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ছুটি দেওয়া হলেও আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সে সুযোগ দেওয়া হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বারবার স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং শুধুমাত্র আশ্বাস দিয়ে শিক্ষার্থীদের ফেরত পাঠানো হয়।ফলে ক্লাস ও পরীক্ষার চাপে অনেক শিক্ষার্থী উৎসব পালন করতে না পেরে বাধ্য হয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় শিক্ষানীতিতে আদিবাসী সংস্কৃতি ও উৎসবগুলো উপেক্ষিত হচ্ছে। পাঠ্যসূচিতে আদিবাসী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উপস্থিতি নেই বললেই চলে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয় সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। এটি শুধু সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি উদাসীনতার প্রতিফলন নয়, বরং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব হুমকির মুখে ফেলছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখনো আদিবাসীদের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি অবলম্বন করা হচ্ছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের প্রধান উৎসবগুলোর জন্য বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা উচিত, যাতে তারা নির্বিঘ্নে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য পালন করতে পারে। পাশাপাশি, শিক্ষানীতিতে আদিবাসী সংস্কৃতি ও উৎসবগুলোর স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন, যাতে প্রতিটি জাতিসত্তা সমান মর্যাদা পায়। পাঠ্যসূচিতে আদিবাসী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি।

একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে হলে প্রতিটি জাতিসত্তার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানানো আবশ্যক।

 


কালের সমাজ//এ.জে

Side banner