ঢাকা শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১
চট্টগ্রামের

নিত্য পণ্যের বাজার সবজি ছাড়া বাকি সব পন্যের দাম ঊর্ধ্বগতি

মোঃ সিরাজুল মনির চট্টগ্রাম ব্যুরো মার্চ ২৭, ২০২৫, ০১:৫৪ পিএম নিত্য পণ্যের বাজার সবজি ছাড়া বাকি সব পন্যের দাম ঊর্ধ্বগতি

গার্মেন্টস কর্মী নাসরিন এসেছিলেন মুরগি নিতে দোকানে একটা মুরগি ওজন করে দেখলো ৪৮০ টাকা আসছে টাকার মিল করতে না পেরে মুরগিটি আর নিল না। হতাশ হয়ে বলল আজকে একটা বিশেষ দিনেও একটা মুরগি কিনে নিয়ে যেতে পারলো না কারণ তার বাজেট কম। দেখা গেল প্রতি কেজি বয়েলের মুরগির দাম ২২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে দোকানে। ছোট মুরগি না পাওয়ায় বড় মুরগি নিতে পারল না নাসরিন। এরকম অনেকেই বাজারে গিয়ে হতাশ হয়ে অন্য কিছু নিয়ে বাসায় ফিরতে হচ্ছে।

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায় দেশি মাছ মাঝারি সাইজের রুই কাতলা কালিবাউশ সহ অন্য মাছগুলো প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় মাছগুলোর দাম আরও বেশি। সামুদ্রিক মাছ অনেকটা ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। চট্টগ্রামের বাজারে লইট্টা মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। সাগরের অন্যান্য মাছ রকম বুঝে দাম হাকাচ্ছে বিক্রেতারা।

নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে পন্যের দাম একেক জায়গায় একেক রকমের। এলাকা বেঁধে অবৈধ ব্যবসায়ীরা দামের হেরফের করার অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের। পাইকারি বাজার থেকে একই মূল্যে পণ্য ক্রয় করে খুচরা ব্যবসায়ীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছে বলে সাধারণ ক্রেতারা অভিযোগ করে। জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে ব্যবসায়ীরা যেমন ইচ্ছা তেমন দাম বাড়াচ্ছে। প্রতিটি দোকানের সামনে মূল্য তালিকা টাঙ্গানোর কথা থাকলেও তা দৃশ্যমান নয়। কোথাও কোথাও বাজার মনিটরিং এর ম্যাজিস্ট্রেট আসার খবর পাওয়ার পরে ব্যবসায়ীরা কিছুটা সজাগ হলে পরবর্তীতে একই কায়দায় পণ্য কেনাবেচা করে।

 বাজার মনিটরিং বিষয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক বলেন প্রতিনিয়ত বাজার মনিটরিং জন্য আলাদা করে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে ওরা বিভিন্ন বাজার মনিটরিং করে জরিমানা করে এবং অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রকারের শাস্তি প্রদান করে। এ বিষয়ে ক্রেতারা বলেন লোক দেখানো এসব অভিযান পরিচালনা করলেও কার্যত  কোন ফলাফল আসে না। অভিযান শেষ করে যাওয়ার পরে অবৈধ মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীরা আবার পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।

 বাজারে কাছা সবজির দাম কিছুটা কম থাকলেও প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। শীতকালীন অন্যান্য মৌসুমী সবজি শেষ হওয়ার কারণে নতুন সবজির দামও ছড়া। কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। পিয়াজ রসুন আদা এসব তুলনামূলক ভাবে দাম কম রয়েছে। 

 তবে এ বছর রমজান মাসে মসলা জাতীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকায় কিছুটা হলেও স্বস্তিতে ছিল সাধারণ ক্রেতারা। তবে বরাবরের মতোই নিত্য পণ্যের বাজারে সরকারি নজরদারি পর্যাপ্ত পরিমাণে হচ্ছে না বলে ক্রেতারা  জানান।  তারা আরো বলেন বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে রমজান মাসসহ বিশেষ দিনগুলোতে বিভিন্ন পণ্যের দাম কমিয়ে দেয় শুধুমাত্র বাংলাদেশ বিশেষ দিনগুলোতে ডাবল করে নাই মুনাফা লোভী ব্যবসায়ীরা।

 বিক্রেতারা বলেন বড় বড় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়ায়। এতে খুচরা পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা এমন সুবিধা ভোগ করতে  পারে না বলেও অনেক ব্যবসায়ী বলেন। বহদ্দারহাট কাঁচা বাজার এর ব্যবসায়ী সোলায়মান জানান পাইকারি বাজারগুলোতে সিন্ডিকেট সৃষ্টি করে বড় বড় ব্যবসায়ীরা পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারগুলোতে অস্থিরতা সৃষ্টি করে যার প্রভাব পড়ে নিম্ন পর্যায়ে পর্যন্ত। 

 একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা কাউসার আহমেদ হতাশ হয়ে বলেন মাসের একটা নির্দিষ্ট বাজেট দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পণ্যের দাম গুলো নিয়মিত ঊর্ধ্বগতি থাকার কারণে বাজেটের টাকা দিয়ে সব সম্পন্ন করা যাচ্ছে না বলে তিনি জানান। বাজার মনিটরিং করার সাথে বর্তমানে সেনাবাহিনীকে যুক্ত করলে আশানুরুপ ফল পাওয়া যাবে বলেও তিনি দাবি করেন।


কালের সমাজ//এ.জে

Side banner