নববর্ষের শোভাযাত্রায় শহিদ আবু সাঈদের স্মরণে ভাষ্কর্য নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে দ্রুত তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
গত বছর কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সহিংসতায় নিহত শহিদ আবু সাঈদকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০ ফুট দীর্ঘ একটি ভাষ্কর্য নির্মাণের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আজাহারুল ইসলাম শেখ। তাঁর ভাষ্যমতে, "এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে যা প্রকল্প বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। নববর্ষের শোভাযাত্রায় এই আয়োজন মূলত জুলাই আন্দোলনের চেতনা তুলে ধরার জন্য।"
তবে অনেক শিক্ষার্থী এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জাকের হোসেন পাশা কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "জুলাই অভ্যুত্থানের তারুণ্যের আইকন শহিদ আবু সাঈদ সবসময় ভাস্কর্য ভিত্তিক নোংরা রাজনীতির বিপক্ষে ছিলেন। একটা কুচক্রী মহল অতিচেতনার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আবু সাঈদের নামে ভাস্কর্য নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা আবু সাঈদের দেশপ্রেমী চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে করি। অতি শীঘ্রই এমন সিদ্ধান্ত থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরে না আসলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। মোট কথা আবু সাঈদ বেঁচে থাকবে তার কৃতকর্মে, ভাস্কর্যে নয়।"
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. কামরুল ইসলাম শান্ত বলেন, "শহিদ আবু সাঈদকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা অবশ্যই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে আমাদের এমন কিছু করা উচিত নয় যা তাঁর ও তাঁর পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থী হয়। তাঁর পরিবার স্পষ্টতই জানিয়েছে যে, তিনি একজন মুসলিম এবং তাঁর মূর্তি নির্মাণ তাঁদের মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আবু সাঈদ নিজেও তাঁর ফেসবুক পোস্টে মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছিলেন। তাই শোভাযাত্রায় তাঁর ভাষ্কর্য নির্মাণ তাঁর আত্মার অবমাননার শামিল।"
একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী সালেহ উদ্দিন মিজান বলেন, "এটি শহিদ আবু সাঈদের রক্তের সঙ্গে তামাশা ছাড়া কিছুই নয়। শহিদের স্মরণে ভাষ্কর্যের নামে মূর্তি নির্মাণ গ্রহণযোগ্য নয়।"
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী ফারহানা তাসনিম ইমি বলেন, "আবু সাঈদের পরিবার চায় তার প্রতিকৃতি বা তেমন কিছু না থাক। আবু সাঈদের গত বছরের ফেসবুক পোস্ট খেয়াল করলে দেখা যায় তিনি উন্নত দেশগুলোর আধুনিক যন্ত্রের আবিষ্কার ও চর্চার কথা বলেছিলেন, আবু সাঈদ আমাদের ইতিহাস। কিন্তু ঐতিহ্য বলতে অন্য জিনিস বোঝায় বলে আমি মনে করি যেখানে আবু সাঈদের ভাস্কর্য আদও ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন করে কিনা আমার জানা নেই। তাই আমি বলবো, আবু সাইদের ভাস্কর্য না বানিয়ে পারলে তার নামে সচল একটি রিসার্চ সেন্টার বানান, কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ২৪ এর শহিদের কোনো স্বপ্ন তো পূরণ হোক।"
এ বিষয়ে শহিদ আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার বড় ভাই আবু হোসেন জানান, "ভাস্কর্য নির্মাণের বিষয়ে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিনের সঙ্গে কথা বলেছি। ডিন আমাদের জানিয়েছেন, ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে না, তবে এক ধরনের প্রতীকী নির্মাণ করা হতে পারে। আমাদের পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো ধরনের ভাস্কর্য বা প্রতীকী নির্মাণ অনুমোদন আমরা করছি না। শিগগিরই কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে পুনরায় অবগত করবো।"
কালের সমাজ//এ.জে
আপনার মতামত লিখুন :