ঢাকা শনিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

নেছারাবাদে গৃহবধূর লাশ উদ্বার

পিরোজপুর প্রতিনিধি মার্চ ১৯, ২০২৫, ০২:৫০ পিএম নেছারাবাদে গৃহবধূর লাশ উদ্বার

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার লামিয়া(২০) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পুলিশ লামিয়ার লাশ উদ্ধার করেন। গৃহবধূর লামিয়ার পিতা মো: মামুন ও তার মা মোসাৎ সালমার অভিযোগ, স্বামী ও  শ্বশুরবাড়ীর লোকজন পারিবারিক কলোহের জেড়ে লামিয়াকে হত্যা করে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালাচ্ছে। নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর গগণ গ্রামে গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।

 লামিয়া আক্তার বরিশাল জেলার বানরিপাড়া উপজেলার উমারেরপাড় এলাকার মামুন মিয়ার কন্যা ও পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর গগণ গ্রামের মো: শাওনের স্ত্রী।

  

লামিয়ার চাচাতো ভাই হুমায়ুণ কবির অভিযোগ করে জানান, দুই বছর আগে নেছারাবাদ উপজেলার উত্তর গগণ গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে মো: শাওনের সাথে লামিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক ও বিভিন্ন কারণে লামিয়ার স্বামী মো: শাওন ও তার পরিবারের লোকজন প্রায় লামিয়াকে মারধর করতো। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে লামিয়ার শ্বশুর বাড়ি থেকে তাদের জানানো হয় লামিয়া গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে রাত ১১ টার দিকে লামিয়ার শ্বশুর বাড়িতে পৌছালে সেখানে লামিয়ার লাশ পাওয়া যায়নি।

লামিয়ার পিতা মো: মামুন অভিযোগ করেন, লামিয়াকে বিয়ে দেয়ার পর থেকে ছয় মাস পর্যন্ত মোটামুটি ভালই চলছিল। তারপর থেকে যৌতুকের দাবিতে নানা অযুহাত তুলে লামিয়ার স্বামী শাওন মেয়েকে মারদর করত। লামিয়ার শশুর এবং শাশুড়িকে বিষয়টি একাধিকবার জানালেও তারা কর্নপাত করতোনা। তিনি বলেন যৌতুকের দাবিতে তার মেয়েকে হত্যা করে গলায় ফাস দেয়া বলে চালানোর চেস্টা চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে লামিয়ার শ্বশুর মো: মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। রাতে খাবার খাওয়ার জন্য লামিয়াকে তার পরিবারের সদস্যরা ও ছেলে ডাকাডাকি করলেও লামিয়া তার ঘরের দরজা খুলছিলো না। পরে দরজা ভেঙ্গে দেখা যায় লামিয়া গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। পরে ঘর থেকে উদ্ধার করে লামিয়াকে নেছারাবাদ হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করে। কি কারণে লামিয়া গলায় ফাঁস দিতে পারে এ বিষয়ে মনিরুল ইসলাম কিছুই বলতে পারেনি এবং তাদের বিরুদ্ধে যে লামিয়াকে হত্যার অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা বলে দাবী করেন।

নেছারাবাদ থানার ওসি মো: বণি আমিন জানান, গৃহবধূ লামিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য জেলা মর্গে প্রেরণ করছে এবং একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্টরের পরে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কালের সমাজ// এ.জে

Side banner