ঈদে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যাত্রীচাপ বাড়বে, তাই সড়কপথে পুরানো বাস মেরামত করে নতুন করার হিড়িক পড়েছে বরিশালে। মহাসড়কে লক্কড়-ঝক্কড় বাস চলাচলের অভিযোগ তুলে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করছেন পরিবহণ ব্যবসায়ীরা।
ঈদকে সামনে রেখে বরিশালের নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে লক্কর-ঝক্কর পুরানো বাসগুলো নতুন করে সাজানোর কাজ চলছে। কেউ রং করছেন, কেউ মেরামত করছেন, এ যেন পুরানোকে নতুন করে গড়ার মহাউৎসব। আগামী ২৬ রমজানের মধ্যে এ কাজ শেষ করার তাগিদে শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এ বছর ঈদে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদীপথের তুলনায় সড়কপথে যাত্রীদের ভিড় বেশি থাকার সম্ভাবনা থাকায় বাস মালিকরা পুরানো বাসগুলো মেরামত করে সড়কে নামানোর চেষ্টা করছেন। তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাস মালিক সমিতির নেতারা। তাদের দাবি, ঈদে সড়কপথে যাত্রীচাপ বেড়ে যাওয়ায় ফিটনেসবিহীন বাস নামানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মো. মোশারেফ হোসেন জানান, পদ্মাসেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা থেকে বরিশালে এখন মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টায় পৌঁছানো যায়। এ কারণে সড়কে যাত্রীচাপ বাড়ায় বেড়েছে বাসের সংখ্যা। ঈদে এই চাপ কয়েকগুণ বাড়ে। কিন্তু সড়কে অধিকাংশ পুরানো, ফিটনেসবিহীন বাস চলাচল করছে। প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার।
এছাড়া, সড়কে থ্রি হুইলার চলাচল এবং রাতে ডাকাতির ভয় নিয়ে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবহন মালিকরা।
নিরাপত্তার বিষয়ে বরিশালের নগর পুলিশ প্রধান শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন , আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তার জন্য তৎপর রয়েছে।
র্যাব-৮-এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ জানিয়েছেন, হাইওয়েতে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে যাতে কেউ অপরাধে লিপ্ত হতে না পারে।
এদিকে, নদীপথে যাত্রীচাপ কমেছে। সরকারি নৌযান বিআইডব্লিউটিসির সার্ভিস না থাকায় এবং বেসরকারি লঞ্চ মালিকরাও যাত্রীচাপ কম থাকার কথা জানিয়েছেন।
পরিবহন ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদকে ঘিরে বরিশালে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ লাখ মানুষ যাতায়াত করেন। নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করছেন তারা।
কালের সমাজ// এ.জে
আপনার মতামত লিখুন :