ঢাকা শনিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে

জেলা প্রতিনিধি,রাজবাড়ী মার্চ ১৪, ২০২৫, ০৬:৫৭ পিএম ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়ার ধর্ষনকারী ও হত্যাকারীর বিচার দাবিতে রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজবাড়ী সদর উপজেলা শাখা। শুক্রবার(১৪মার্চ) দুপুরে শহরের জেলা স্কুলের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি এ্যাডঃ জাহাঙ্গীর আলম খান জাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজবাড়ী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আরিফুল ইসলাম,ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সেক্রেটারি ক্বারী আবু ইউসুফ, সদর উপজেলা ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি মাওলানা ফরিদ ইবনে জামাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাব্বির হোসেন,ইসলামী যুব আন্দোলনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মিলন

ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ রাজবাড়ী জেলা শাখার সেক্রেটারি আব্দুল আলিম প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

এসময় সদর উপজেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আব্দুল কাইয়ুম সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ১৩ই মার্চ মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা গেছেন। শিশু আছিয়াকে যারা ধর্ষণ করেছে আমারা তার সর্বচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবি করছি। দুঃখের বিষয় আমার বোনকে ধর্ষণ করা হয়েছে, সে মারা গিয়েছে, কবরে চলে গিয়েছে।অথচ এদেশের ধর্ষকরা এখনো জীবিত আছে এটা আমরা মেনে নিতে পারি না। আমরা ওই আদালত দেখতে চাই না যে আদালতে ধর্ষকদের বিচার করতে ১৮০ দিন লাগে। আমরা ওই আদালতকে দেখতে চাই না।

বক্তারা আরও বলেন, দেশ স্বাধীন হয়েছে আর স্বাধীন দেশে ধর্ষকরা স্বাধীন ভাবে ধর্ষণ করবে আমরা এটা মেনে নিবনা।আছিয়াকে যারা হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হোক।যাতে এই শাস্তি থেকে অন্য কেউ এমন অপরাধ আর না করতে পারে।ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কামনা করছি।বর্তমান অন্তর্বর্তীকাল সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মানুষের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।তাই দেশের ধর্ষণের মত অপরাধ বেড়েই চলছে।আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে আবেদন করছি অনতিবিলম্বে ধর্ষকদের আইনের আওতায় আনার জন্য।

প্রসঙ্গত, মাগুরায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত ৫ মার্চ রাতে ধর্ষণ ও নিপীড়নের শিকার হয় আট বছরের শিশুটি। বোনের শ্বশুর তাকে ধর্ষণ করেছে বলে জানায় সে। ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার বোনের অভিযোগ, গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পরও তাকে চিকিৎসার জন্য না নিয়ে উল্টো ঘরের ভেতরে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।

পরদিন ৬ মার্চ সকালে প্রতিবেশী এক নারী তাদের ঘরে এলে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ে এবং এরপর শিশুটিকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। ততক্ষণে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে। হাসপাতালে গিয়ে বোনের শাশুড়ি চিকিৎসকদের জানান শিশুটিকে জ্বিনে ধরেছে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বিষয়টি টের পেয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান বোনের শাশুড়ি।

৬ মার্চ দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ওইদিন রাতেই পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঢাকা মেডিকেলে দুইদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ৮ মার্চ শনিবার তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

ধর্ষণের ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় মামলা করেছেন শিশুটির মা। এতে শিশুটির বোনের শ্বশুর, শাশুড়ি, ভাশুর ও ভগ্নিপতিকে আসামি করা হয়েছে। তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।

 


কালের সমাজ// এ.জে

Side banner