যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শ্রীরামপুর সিদ্দিকীয়া আলিম মাদরাসার শিক্ষক বিল্লাল হোসেন
নিজেকে ২পদে বহাল থাকার অভিযোগ উঠেছে।
চ্যাঞ্চল্যকর এই তথ্য ফাঁস হওয়ায় সম্প্রতি মাদরাসার ২৮জন শিক্ষক-কর্মচারীর বেতনভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে। দুই পদের একটিতে নিজেকে মৌখিক ভাবে অব্যহতির দাবি করলেও কোন কাগজপত্র খাতে পারিনি।
মাদরাসায় গোপণে ভুয়া কাগজপত্র তৈরী হচ্ছে, এমন সংবাদ পেয়ে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার
দিকে স্থানীয় সংবাদিকদের একটি টিম সরেজমিনে শ্রীরামপুর সিদ্দিকীয়া আলিম মাদরাসায় গিয়ে দেখা গেছে, পবিত্র রমজানের ছুটি থাকলেও ভাইস প্রিন্সিপাল ও সহকারী অধ্যাপক (আরবি) কাই ২পদের দায়িত্বে থাকা মো. বিল্লাল হোসেন, সহকারী শিক্ষক (কৃষি) নজরুল ইসলাম ও অফিস সহকারী আমীর হামজা অফিস খুলে কাগজপত্র ঠিক করছেন।
সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত হাতে থাকা কাগজপত্র ফাইলের নিচে লুকিয়ে রাখেন।
জানতে চাইলে ভাইস প্রিন্সিপাল পদে থাকা বিল্লাল হোসেন বলেন, তিনি ২৪/১২/২০২২ সালে উক্ত
মাদরাসার ভাইস পিন্সিপাল পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে ৩০/০১/ ২০২৩ ইং তারিখে তিনি
ভাইস প্রিন্সিপাল পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। কিন্তু নিজের পদত্যাগপত্র বা কোন রেজুলেশন দেখাতে পারেননি। বিষয়টি তখনকার ম্যানেজিং কমিটির দোহায় দিয়ে তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
জানতে চাইলে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের বর্তমান
সভাপতি ভুপালী সরকার বলেন, গত ২০ অক্টোবরে-২০২৪ তিনি উক্ত মাদরাসা পরিদর্শনে
গিয়েছিলেন। তখন বিল্লাল হোসেন নিজেকে ভাইস প্রিন্সিপাল পরিচয় দিয়েছিলেন। অথচ
এখন তিনি উক্ত পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানাচ্ছেন। এছাড়া সেদিন উক্ত মাদরাসায় ভাইস
প্রিন্সিপাল পদ বাদে ১১টি পদ শূণ্য রয়েছে জানালেও এখন ১২পদ শুন্য দেখানো হচ্ছে।
শূণ্য পদগুলো হলো, ভাইস প্রিন্সিপল একজন, আরবি প্রভাষক একজন, তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষক একজন, বিজ্ঞান প্রভাষক একজন, সহকারী মৌলভী ২জন, সহকারী শিক্ষক ভৌত বিজ্ঞান একজন, সহকারী শিক্ষক জীব বিজ্ঞান একজন, এবতেদায়ী প্রধান একজন, এবতেদায়ী প্রধান একজন, এবতেদায়ী মৌলভী একজন, এবতেদায়ী ক্বারী একজন।
ফলে বিল্লাল হোসেন সেসময় পদত্যাগ করেছেন সেই রেজুলেশনসহ পদত্যাগপত্র চাওয়া হয়েছে বলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান।
উক্ত মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক কিডনী, লেবারসহ নানা জঠিল রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগে ৫আগষ্ট পূর্ববর্তী আওয়ামীলীগ সরকারের
ক্ষমতার জোর দেখিয়ে বিল্লাল হোসেন একের পর এক দূর্নীতি অনিয়মসহ মাদরাসার শিক্ষক-
কর্মচারীদের জিম্মি করে রেখেছিলেন।
তার বিরুদ্ধে মাদরাসার কোন শিক্ষক-কর্মচারী কথা বলতে সাহস পাননি। গুরুতর অসুস্থ বর্তমান
প্রিন্সিপাল না থাকলেও আওয়ামীলীগ সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে তিনি ভাইস প্রিন্সিপাল পদ
থেকে প্রিন্সিপল হবেন। সেকারণে গোপনে ভাইস প্রিন্সিপাল পদ থেকে পদত্যাগ করেও এতদিন
রেজুলেশন ভুক্ত করেননি বলে মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষক ও গ্রামবাসী সুত্রে জানাগেছে।
বিষয়টি তদন্তপূর্বক বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও করেন গ্রামবাসী।
এ বিষয় জানতে প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক এর ০১৭৬১৪১৪৬৮৮ মোবাইলে ফোন দেয়া হলে তিনি কিডনী ডায়ালাইসিসে রয়েছেন বলে সহধর্মীনী জানিয়েছেন। মাদরাসা পরিচালনা
পর্ষদের তৎকালিন সভাপতি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমানের ০১৭১১-০৬১৩৫৪ মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
কালের সমাজ// এ.জে
আপনার মতামত লিখুন :