ঢাকা শনিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

বান্দরবানে সামাজিক বিচারে ধর্ষণের শাস্তি ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

মো. ইসমাইলুল করিম মার্চ ১২, ২০২৫, ০৪:৩৬ পিএম বান্দরবানে সামাজিক বিচারে ধর্ষণের শাস্তি ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

পার্বত্য জেলার বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে মানসিক প্রতিবন্ধী  কিশোরীকে ধর্ষণের অপরাধে অভিযুক্তকে সামাজিক বিচারে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ধর্ষণের মতো এমন বর্বরতার বিচারের নামে সামাজিক এ কেমন বর্বরতা। এমন প্রশ্নে বিস্মিত হয়েছেন স্থানীয়রা। 

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রোয়াংছড়ি উপজেলা খামতাং পাড়ার খেয়াং সম্প্রদায়ের সমাজপতিরা তাদের সম্প্রদায়ের এক মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে এ মূল্যে নির্ধারণ করেন। আপোষনামাটিতে উল্লেখ করা হয়,খামতাং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেয়াং সম্প্রদায়ের এক কিশোরীকে ধর্ষণ করার অপচেষ্টা করার কারণে খেয়াং জাতির রীতিনীতি অনুযায়ী আসামি মো. জামাল হোসেনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা ও জুতার মালা পরিয়ে পুরোগ্রাম সাত বার ঘোরানোর রায় ধার্য করা হয়।

আপোষনামাটিতে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও অভিযুক্ত মো. জামাল হোসেনকে এই ঘটনায় স্থানীয়রা আটকের পর অভিযুক্ত নিজেই এক ভিডিও রেকর্ডে কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকার করেন। তবুও ধর্ষণের মতো বর্বরতার শাস্তি স্বরূপ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করায় বিস্মিত হয়েছেন স্থানীয়রা। বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও নারীনেত্রী ডনাই প্রু নেলী বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে কোনো ধর্ষককে রেহাই দেওয়া হবে না। ধর্ষকের কোনো জাত-ধর্ম নাই। কোনো ধর্ষক কারোর সন্তান হতে পারে না। ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।

আমাদের পাহাড়ি সমাজে এখনও কুসংস্কার বিশ্বাস করার কারণে সরকারি আইন আদালতে যেতে অনীহা এবং সমাজপতিদের বিচার-শালিসের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু কোনো কার্বারী-হেডম্যান, মেম্বার-চেয়ারম্যান, রাজা-বাদশাহ কেউই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে পারেন না। এই অপরাধের জন্য কোনো আপোষ করা যাবে না। তাই হত্যা ও ধর্ষণসহ ফৌজদারি অপরাধের বিচার দেশের প্রচলিত আইনেই দ্রুত বিচার করার আহ্বান জানান তিনি। 

৮ জন বিশিষ্ট সামাজিক এই বিচার কমিটির সদস্য ও ভিডিপি কমান্ডার পাইগ্য খেয়াং বলেন, ধর্ষণের শিকার হওয়া কিশোরীর মা ও ভাই মামলা করতে রাজি না হওয়ায় তাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় রতন খেয়াং যেভাবে বিচার চেয়েছেন ঠিক সেভাবেই বিচারে আসামি মো. জামাল হোসেনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা ও জুতার মালা পরিয়ে ৭ বার পুরো গ্রাম ঘোরানোর রায় দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে রতন খেয়াংয়ের মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার ফোন করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। 

রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু ভিক্টিম ও তার আত্মীয়স্বজন মামলা করতে ইচ্ছুক নয়। পুলিশের পক্ষ থেকে তারপরও ভিক্টিম ও তার মা-বাকে বুঝিয়ে মামলা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি ভিক্টিমকে ডাক্তারি পরীক্ষা করা সম্ভব না হলে ধর্ষণের আলামত বা মামলার কার্যকারিতা থাকে না। ভিক্টিম ও তার  স্বজনরা মামলা না করলে আসামিকে ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে জানান তিনি। 

উল্লেখ্য: গত সোমবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যায় বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে মানসিক প্রতিবন্ধী  খেয়াং সম্প্রদায়ের এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়। এই ঘটনায় ১১ মার্চ সড়ক নির্মাণ শ্রমিক মো. জামাল হোসেন (৩২) নামে  যুবককে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করে স্থানীয়রা। পরে সামাজিক বিচারে ধর্ষণের শাস্তি  হিসেবে অভিযুক্তকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে জুতার মালা পরিয়ে ৭ বার গ্রামটি ঘোরানো হয়। মঙ্গলবার ধর্ষণে অভিযুক্ত মো. জামাল হোসেনকে জুতার মালা পরিয়ে খামতাং পাড়ায় পুরো গ্রাম ঘোরানো হয়।


কালের সমাজ//এ.জে

Side banner