ঢাকা শনিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

রাজবাড়ীতে কোন হাসপাতালে নেই জলাতঙ্কের টিকা

মীর সামসুজ্জামান সৌরভ,রাজবাড়ী মার্চ ৯, ২০২৫, ১০:২৬ এএম রাজবাড়ীতে কোন হাসপাতালে নেই জলাতঙ্কের টিকা

রাজবাড়ীর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিকৃত জেলা সদর হাসপাতালে জলাতঙ্ক টিকার সংকট দেখা দিয়েছে। বিনামূল্যের এ টিকা না থাকায় বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত রোগীরা বাধ্য হয়েই বাহিরের ফার্মেসি থেকে বেশি দামে কিনে টিকা নিচ্ছেন রোগীরা।

শুধু জেলার সদর হাসপাতাল নয় জেলার সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতাল গুলোতে মাসের পর মাস নেই জলাতঙ্কের টিকা।

জেলা শহরসহ উপজেলা শহরগুলোতে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষ কুকুর, বিড়াল, ইঁদুর, শিয়াল সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হচ্ছেন। আক্রান্ত এসব রোগীরা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ভিড় করলেও সেখানে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে র‌্যাভিস ভ্যাকসিনের সরবরাহ নেই। এতে করে আক্রান্ত রোগীদের বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে। আবার অনেকের পক্ষে কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

শনিবার (৮ মার্চ) সকালে রাজবাড়ী আধুনিকৃত সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে দ্বিতীয় তলায় ২০৩ নম্বর কক্ষে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়ার কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই কক্ষের দরজায় সাদা কাগজে বেশ বড় করে লেখা রয়েছে ‘গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে র‍্যাবিস ভ্যাকসিন সাপ্লাই নেই’। দেখা যায় সকাল থেকেই জেলা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে রোগীরা জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিতে আসছেন। কিন্তু হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকায় অনেকে ফিরে যাচ্ছেন। আবার অনেকে চারজন গ্রুপ হয়ে প্রত্যেকে ১৩০ টাকা করে দিয়ে ৫২০ টাকা দিয়ে বাইরে থেকে কিনে নিয়ে আসছেন।

জানা গেছে, জেলার ১০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিকৃত সদর হাসপাতালে দুই সপ্তাহ, পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে প্রায় ১ মাস, বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ২ মাস, কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ২ মাস ও গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে প্রায় তিন মাস ধরে নেই জলাতঙ্কের টিকা। এসব উপজেলার রোগীরা জেলা সদর হাসপাতালের এসে টিকা নিচ্ছিল। কিন্তু জেলা সদর হাসপাতালও প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এখন জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নেই। তাই বাধ্য হয়ে রোগীদের বেশি দামে বাইরে থেকে কিনে নিতে হচ্ছে।

মেয়ে তায়েবা কি নিয়ে নিয়ে টীকা নিতে এসেছেন কালুখালী উপজেলার জাকির হোসেন। তিনি বলেন, আমার মেয়েকে বিড়ালে কামড় দিয়েছিলো। কালুখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানে ভ্যাক্সিন না পেয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এসেছি।কিন্তু এখানেও এসে দেখি ভ্যাক্সিন নেই।এখন আমাকে ৪ জনের একটি গ্রুপ তৈরি করে বাইরে থেকে কিনে নিতে হচ্ছে। বাইরে একটি ভ্যাক্সিন ৫২০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

সদর উপজেলার খানখানাপুর থেকে আসা ষাটোর্ধ্ব আনোয়ারা বেগম বলেন, আমি কুকুরের কামরের ভ্যাক্সিন নিতে এসেছিলাম।কিন্তু এসে দেখি ভ্যাক্সিন নেই।আমার কাছে টাকাও নেই। এখন আমি কিভাবে ভ্যাক্সিন নেবো..?

বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর থেকে আসা ইসতাক হোসেন বলেন, আমি আমার মেয়েকে নিয়ে এসেছিলাম কুকুরের কামরের ভ্যাক্সিন নিতে। আজ তার দ্বিতীয় ডোজের তারিখ ছিলো। কিন্তু ভ্যাক্সিন না থাকায় বাইরে থেকে কিনে নিতে হলো। চার জনের গ্রুপ করে প্রতিজনের ভাগে ১৩০ টাকা করে পড়েছে।  প্রথম ডোজের ভ্যাক্সিনটাও আমাকে কিনে নিতে হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে টীকা থাকার কথা থাকলেও এখন পাওয়া যাচ্ছে না।

পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ এবাদত হোসেন বলেন, আমাদের হাসপাতালে প্রায় এক মাস র‍্যাবিস ভ্যাকসিন নেই। আমাদের সিভিল সার্জন অফিস থেকে সরবরাহ করা হয়ে থাকে।কিন্তু সেখানেও নেই। আমরা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।

কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ইসরাত জাহান উম্মন বলেন,প্রায় দুই মাস ধরে আমাদের হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই।আমরা বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ফারুক হোসেন বলেন, প্রায় দুই মাস আমাদের হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের সরবরাহ নেই। উপজেলার রোগীদের জেলা সদর হাসপাতাল সহ অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ শেখ মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, সারাদেশেই টীকা সংকট। আমরা চাহিদা পাঠিয়েছি। স্টোরে টীকা নেই।কবে নাগাদ আসবে সেটাও বলতে পারছিনা। টীকা আসা মাত্রই রোগীরা পাবে।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম মাসুদ বলেন, আমি রাজবাড়ী জেলায় গত বৃহস্পতিবার(৬ মার্চ) যোগদান করেছি। জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই জানতে পারলাম। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

 

কালের সমাজ//এ.জে

Side banner