ঢাকা শনিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১
থ্রি-হুইলার ও বাস শ্রমিকদের

মারামারি থামাতে গিয়ে ৩ ববি শিক্ষার্থী আহত!

গাজী আরিফুর রহমান , বরিশাল মার্চ ৮, ২০২৫, ০৫:২২ পিএম মারামারি থামাতে গিয়ে ৩ ববি শিক্ষার্থী আহত!

বরিশাল নগরীর রুপতলী এলাকায় থ্রি-হুইলার (মাহিন্দ্রা) শ্রমিকদের হামলার শিকার হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। 

শনিবার ( ৮ মার্চ ) বেলা ১১টার দিকে মেট্রোপলিটন বন্দর থানাধীন খয়রাবাদ সেতুর ঢালে থ্রি-হুইলার (মাহিন্দ্রা) এবং বাস শ্রমিকদের মধ্যেকার মারামারি থামাতে গেলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে মাহিন্দ্রা শ্রমিকেরা। এতে লোকপ্রশাসন বিভাগের ছাত্র তানজিল আজাদ, তরিকুল ইসলাম আজমাইন ও  রবিউল ইসৃলাম নামে এই তিন শিক্ষার্থী আহত হলে অন্য শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পাশাপাশি হামলাকারী শ্রমিকদের শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ঢাকা-কুয়াকাটা  মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কে সকল ধরনের পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ও ব্রিজের উভয়প্রান্তে কয়েশ যানবাহন আটকা পড়ে। সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে পরিবেশ-পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ-প্রশাসনের আশ্বাসে দুই ঘণ্টা পরে দুপুর ১ টার দিকে অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা। 

পুলিশ ও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন ,  থ্রি-হুইলারে যেন যাত্রী নিতে না পারে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন খয়রাবাদ সেতুর ঢালে চেকপোস্ট বসায় রূপাতলী বাসমালিক সমিতির লোকজন। এনিয়ে থ্রি-হুইলার চালকদের সঙ্গে বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে গন্ডগোল হয়। এর ঘণ্টাখানেকের মাথায় বেলা ১১টার দিকে বাস এবং থ্রি-হুইলার চালকদের মধ্যে মারামারির খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে উভয়পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে যায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেই সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় থ্রি-হুইলার চালকরা । চালকদের হামলায় লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিল আজাদ, তরিকুল ইসলাম আজমাইন এবং রবিউল ইসলাম আহত হন। 

শিক্ষার্থী তানজিল আজাদ বলেন ,  সংঘাতের খবর পেয়ে আমরা এগিয়ে গিয়ে দেখি ৬০ বছর বয়সি এক যাত্রীকে থ্রি-হুইলার চালকরা মারধর করছেন। তখন আমি তাকে ছাড়িয়ে দিই। এতে চালকরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের মারধর করে।

একই তথ্য দিয়েছেন শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম আজমাইন।  তিনি অভিযোগ করে বলেন , সিএনজি চালকরা বাসে উঠে সাধারণ যাত্রীদের আঘাত করছিলেন। তখন তাদের মারামারি না করতে বলায় সিএনজি চালক ও স্থানীয় সাত-আটজন মিলে আমাদের মারধর করে। এই মারধরের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু করে শিক্ষার্থীরা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলতে থাকায় কুয়াকাটা-বরিশাল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় , ভোগান্তিতে পরে সাধারণ মানুষ। পরবর্তীতে বাস মালিক সমিতি , সেনাবাহিনী ও মেট্রোপলিটন পুলিশের সমঝোতার আশ্বাসে বেলা ১টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। 

ঘটনাস্থল সংশ্লিষ্ট বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন , “জনভোগান্তি রোধে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিয়েছেন। বর্তমানে সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার সমাধানে বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে ।” 

 

কালের সমাজ//এ.জে

Side banner